Blog

ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব সাউথ এশিয়া’র আয়োজন নিয়ে আনোয়ার আজাদের সাথে কথোপকথন-Bangla kagoj,Toronto

767 Views0 Comments

সাপ্তাহিক ‘বাংলা কাগজ’-এর পক্ষ থেকে ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব সাউথ এশিয়া (ওঋঋঝঅ)’র বেংগলী এফিয়ার্স এর পরিচালক আনোয়ার আজাদ-এর সাথে এবারের চলচ্চিত্র উৎসব নিয়ে কথা বলেছেন টরন্টো ফিল্ম ফোরাম-এর সাধারণ সম্পাদক মনিস রফিক।
মনিস রফিক: বিগত কয়েক বছর ধরে টরন্টো ও এর আশেপাশের কয়েকটি শহরে দক্ষিণ এশীয় চলচ্চিত্রের এক মহা আয়োজন করছে ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব সাউথ এশিয়া (ওঋঋঝঅ)। এ উৎসবের একজন প্রধানতম ব্যক্তি হিসেবে আপনার কাছে এ উৎসব সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি।
আনোয়ার আজাদ: এই ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০১১ সালে পাঞ্জাবী ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল হিসেবে শুরু হয়েছিল। ২০১২ সালেই দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্রের অংশগ্রহণে আরো ব্যাপক আকারে চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করার লক্ষ্যে এটার নাম পরিবর্তন করে নাম রাখা হয় ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব সাউথ এশিয়া, যার সংক্ষিপ্ত রূপ ইফসা। এবারের ১২ দিনের উৎসবে ৪০টির বেশি বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও আয়োজনে এ উৎসবে মূলত প্রাধান্য পাবে দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতি ও পরিচয়ের প্রতি আলোকপাত করে এমন কাহিনী, প্রামাণ্য ও স্বল্পদৈর্ঘের চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রগুলি থাকছে বিভিন্ন ভাষার, বিভিন্ন মেজাজের আর বিভিন্ন দৃষ্টিভংগির।
এ ছাড়াও এ উৎসবে থাকছে কনসার্ট, গালা-ইভেন্ট, লাউঞ্জ পার্টি, সেমিনার, ওয়ার্কশপ এবং চলচ্চিত্র উন্নয়ন ও প্রসারে সরকাীি প্রতিনিধিদের সাথে ব্যবসায়ী, স্থানীয় সংগঠন, ব্যবসায়ী, চলচ্চিত্র প্রয়োজক, পরিচালক, কলা-কুশলীর এবং গণমাধ্যম কর্মীর সাথে এক ধরনের সম্পর্ক সহজ ও উন্নয়ন করা।
মনিস রফিক: এবারের উৎসবে মোট কয়টি এবং কতটি ভাষার চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে?
আনোয়ার আজাদ: এবারের উৎসবে ১৫টি ভাষার প্রায় ১২৫টি চলচ্চিত্র দেখানো হবে। যে সব ভাষার ছবি দেখানো হবে সেগুলো হচ্ছেÑ অসমিয়া, বাংলা, ইংরেজি, ফরাসী, হরিয়ানী, হিন্দী, কানাড়া, মৈথিলী, মালায়ালাম, মারাঠী, নেপালী, পাঞ্জাবী, সিঙ্ঘলীজ, তুর্কী ও উর্দু।
মনিস রফিক:  মোট কয়টি স্থানে এসব চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে? ভেন্যুগুলি কোথায়?
আনোয়ার আজাদ: এবারের উৎসবে টরন্টোসহ এর আশেপাশের ৭টি শহরে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। যেসব জায়গায় এই চলচ্চিত্রগুলি দেখানো হবে, সেগুলো হচ্ছেÑ টরন্টো, মিশিশাগা, ব্রাম্পটন, স্কারবরো, রিচমন্ড হিল, মিল্টন ও ওকভিল।
মনিস রফিক: এবারের উৎসবের বিশেষ কোন বৈশিষ্ট্য আছে কী?
আনোয়ার আজাদ:  এবারের উৎসবে প্রায় ৪৫০টি চলচ্চিত্র জমা পড়েছে। ইফসা’র চলচ্চিত্র উৎসবের ইতিহাসে এটা সর্বোচ্চ জমা। আমরা খুবই অনুপ্রাণিত হচ্ছি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের এই উৎসবের প্রতি এই আগ্রহ দেখে। সাম্প্রতিক সময়ে কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র এগুলোর মধ্যে আছে। আমরা যদি বাংলা চলচ্চিত্রের দিকে তাকাই, তাহলে দেখবো বিভিন্ন ধরনের চলচ্চিত্র জমা পড়েছে এবং আমরা এর অধিকাংশই দর্শকদের দেখাবো। এই সব চলচ্চিত্রের মধ্যে বেশ কয়েকটি নির্মিত হয়েছে সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে। বরাবরের মত এবারেও বাংলা চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
মনিস রফিক: এবারে উৎসবে যে সব বাংলা ছবি প্রদর্শিত হবে, সেগুলো সম্পর্কে কিছু বলেন।
আনোয়ার আজাদ: বাংলা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে আমন্ত্রণ পেয়েছে বাংলাদেশের পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ভুবনমাঝি’, ‘মাটির প্রজার দেশে’, ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’ ও ‘গোপন’ এবং কলকাতার ‘চিত্রকর’। আসামের রাজবংশী ভাষায় নির্মিত ‘সোনার বরন পাখি’ এবং ঋতুপুর্ণ সেনগুপ্তের ‘গহীন হৃদয়’।
ফখরুল আবেদিন খান পরিচালিত ‘ভূবনমাঝি’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত হয়েছে। এখানে মুল চরিত্রে অভিনয় করেছেন কলকাতার অভিনেতা পরমব্রত চট্টপাধ্যায় এবং বাংলাদেশের অপর্ণা ঘোষ, মাজনুন মিজান প্রমুখ। বিজন ইমতিয়াজ পরিচালিত ‘মাটির প্রজার দেশে’ ছবিতে অভিনয় করেছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, রোকেয়া প্রাচী, আব্দুল্লাহ রানা ও কচি খন্দকার প্রমুখ। দশ বছরের বালক জামাল তার মাকে নিয়ে এক বাঁধনহারা গ্রামীণ যাপিত জীবন থেকে মাটির প্রজার দেশে ছবিটির কাহিনী শুরু হয়েছে। আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ পরিচালিত ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’ তে অভিনয় করেছেন মোস্তফা মনোয়ার, তানভীর আহমেদ চৌধুরী ও তাসনোভা তামান্না। সাদা-কালো রঙের নির্মিত এই চলচ্চিত্র। ছবির কাহিনীতে প্রধান অভিনেতার মূল্যবোধ ও জীবিকার মধ্যে টানাপোড়েনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে। ব্যস্ত নগরী ঢাকার গল্পের মধ্যে সত্যি সত্যি এই শহরের হার্টবিট শুনতে পাবো। পরিচালক আশরাফ শিশিরের ‘গোপন’ ছবিতে অভিনয় করেছেন সুমনা সোমা, ক্যাটরিনা লাবণ্য ও ভারতের কাবেরী রায় প্রমূখ। ছবিটিতে একজন প্রথিতযশা লেখিকা যিনি গত পাঁচ বছরে আর কিছুই লিখতে পারেননি। শৈশবে নকশাল বাড়ি আন্দোলনে হারিয়ে যাওয়া বাবার অপেক্ষায় একলা মায়ের সংগ্রামের মধ্যেই বেড়ে উঠেছিলেন তিনি। শৈশবে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে জীবনে কোন পুরুষকেই আর বিশ্বাস করতে পারেনি সে। জীবনবাস্তবতা তাঁকে এভাবেই করে তুলেছিল একাকী। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর লেখক জীবন। তারপর ঘটনা পরম্পরায় তাঁর গোপন জীবনের একাকীত্বের মধ্যেই ঘুরপাক খায়। ভারতের শৈবাল মিত্রের ‘চিত্রকর’ ছবিতে অভিনয় করেছেন ধৃতিমান চ্যাটার্জি, অর্পিতা চ্যাটার্জি, মৃনাল দে ও দেবদুত ঘোষ প্রমূখ। চলচ্চিত্রটির  কাহিনী দুই কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী ভারতের বিনোদ বিহারি মুখার্জি এবং ইউএসএ-এর মার্ক রোথকো’র জীবনের দুটো ঘটনা দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়। পরিচালক বেবি শর্মা বড়ুয়ার ‘সোনার বরন পাখি’ একটি মিউজিকাল ছবি। কিংবদন্তী গোল্পারিয়া লোকগায়ক পদ্মশ্রী প্তিমা বড়ুয়া পাণ্ডের জীবনের উপর ভিত্তি করে রাজবংশী ভাষায় নির্মিত। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন অভিনেতা প্রাণ জালসাইকিয়া প্রমূখ। এ বছর বাংলাদেশ ও কলকাতা থেকে বেশ কিছু স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি এই উৎসবে প্রদর্শিত হবে।
মনিস রফিক: এই উৎসবে বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্রের অন্তর্ভূক্তি মূলত আপনার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে, আপনি চলচ্চিত্র নির্বাচনে কোন কোন বিষয়ের ওপর দৃষ্টি রাখেন।
আনোয়ার আজাদ: আপনাকে জানিয়ে রাখি, শুধু আমার সিদ্ধান্তেই কোনো চলচ্চিত্র উৎসবে অন্তর্ভূক্ত হয় না। আসলে, বলতে পারেন আমি মূলত বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সাথে ইফসা’র একটা যোগাযোগ ঘটিয়ে থাকি। আমি চেষ্টা করি বাংলাদেশ ও কোলকাতার চলচ্চিত্র নির্মাতাদের এই উৎসব সম্পর্কে জানাতে এবং তাঁদের আহ্বান জানায় তাঁদের নির্মিত চলচ্চিত্র উৎসবে জমা দেবার জন্য। বলা যেতে পারে, আমি খোঁজ রাখি কারা ভালো বাংলা ছবি নির্মাণ করছেন এবং তাঁদের এক ধরনের উৎসাহ দিই এই উৎসবে যোগ দেবার জন্য যাতে কানাডার দর্শকরা ভালো চলচ্চিত্রের আস্বাদ থেকে বঞ্চিত না হন। তারপর আমাদের একটি নির্বাচন কমিটি প্রতিটি ছবি কয়েকবার দেখে ছবিগুলোর কাহিনী, ক্যামেরার কাজ, শৈল্পী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর ভিত্তিতে ছবি প্রদর্শনের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করে। চলচ্চিত্র চূড়ান্তভাবে নির্বাচন কমিটির আমি একজন সদস্য।
মনিস রফিক: বাংলাদেশ থেকে এবার কোন কোন চলচ্চিত্র এ উৎসবে প্রদর্শিত হবে। বিষয়বস্তু ও কারিগরী দিক দিয়ে এ চলচ্চিত্রগুলির বৈশিষ্ট্য কেমন?
আনোয়ার আজাদ: বাংলাদেশে নির্মিত চারটি পূর্ণদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র এবারের উৎসবে দেখানো হবে। চলচ্চিত্রগুলি হচ্ছে, ‘ভুবনমাঝি’,  ‘মাটির প্রজার দেশে’, ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’ ও ‘গোপন’। এ ছাড়া ৫টি স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র দেখানো হবে। সেগুলো হচ্ছে, ‘দ্য সাইলেন্ট ডল’, ‘ট্রেঞ্চ অব ফেয়ার’, ‘রৌলেতী’, ‘নেমলেস’ এবং ‘সিটিজেন’।
মনিস রফিক: আপনি দীর্ঘদিন কানাডায় বসবাস করছেন এবং কানাডার বাংলাদেশী  কমিউনিটির একজন পরিচিত মুখ হিসেবে বিভিন্ন সংগঠনের সাথে প্রত্যক্ষভাবে এবং গুরুত্বের সাথে কাজ করে চলেছেন। কানাডায় অভিবাসী হওয়ার পূর্বে বাংলাদেশে কী ধরনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন?
আনোয়ার আজাদ: আমি পূর্বে চলচ্চিত্রের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলাম না। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই আমি ছিলাম চলচ্চিত্র দেখার পোকা। প্রচুর চলচ্চিত্র দেখতাম। এক সময় বন্ধুবান্ধব দল বেঁধে নিয়মিত বেইলী রোডে নাটক দেখতাম। সেই সাথে যে কোনো ভালো বাংলা ও ইংরেজি ছবি দেখা থেকে কখনো বাদ দিতাম না। এক সময় দীর্ঘদিন প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলাম। সেই স্কুল থেকেই বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এর রাজনীতি করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা নগর ছাত্র ইউনিয়ন কমিটিতে আমি ছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করার পর আমি কিছুদিন সিপিবির রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলাম।
মনিস রফিক: বর্তমানে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম যে ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন, সে বিষয়ে আপনার মন্তব্য জানতে চাচ্ছি।
আনোয়ার আজাদ: আমি সত্যি করেই বলছি, বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের ছবি দেখে আমি খুবই মুগ্ধ হচ্ছি। এই উৎসবে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত হবার পর আমি নিয়মিত বাংলাদেশে নির্মিত নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্র দেখি, যেগুলোর অনেকগুলোয় সাধারণ উৎসবে প্রদর্শিত হয় না। আমি আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি, যাতে তারা তাদের এই মেধা ও পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন পায়, সেই সাথে আমি চেষ্টা করছি, তাদের পাশে দাঁড়াতে যাতে তারা চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে তাদের ঈপ্সিত স্বপ্নে পৌঁছতে পারে।
মনিস রফিক: আপনি এমন এক গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবের একজন প্রধানতম আয়োজকের দায়িত্ব পালন করায় বাংলাদেশী কমিউনিটি সব সময় আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ, বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের এই বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া ছাড়াও আপনি নিজে চলচ্চিত্র প্রয়োজনায় এগিয়ে এসেছেন। ইতোমধ্যে আপনার প্রয়োজনায় কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে এবং আরো কয়েকটি নির্মিত হতে যাচ্ছে। আপনার চলচ্চিত্র প্রয়োজনার বিষয়টি আমাদের বলুন।
আনোয়ার আজাদ: আপনি বলতে পারেন ইফসা’র সাথে যুক্ত হওয়া আমাকে চলচ্চিত্র প্রযোজনার দিকে ঠেলে দিয়েছে। ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণে আমি এখন আমার অবস্থান থেকে স্বপ্ন দেখছি এবং আমার করণীয় কাজ করে যাচ্ছি। আমার প্রডাকশন হাউস কানাডিয়ান মিডিয়া এন্টারটেইন্টমেন্ট ইনক থেকে আমার প্রযোজনায় প্রথম চলচ্চিত্র হচ্ছে, ‘গোপন’।
গত বছরের আগস্ট মাসে ছবিটি নির্মিত হয়েছে। ইতোমধ্যে ছবিটি গত নভেম্বরে দিল্লী ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও গত জানুয়ারি মাসে নেপালের এক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হয়েছে। আমার পরবর্তী ছবি ‘মুখ ও মুখোশ’। আমি এ ছবিটির নির্বাহী প্রযোজক। ছবিটির পরিচালক হচ্ছেন গোলাম মোস্তফা শিমুল। আগামী জুলাই মাসে টরন্টোতে ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হবে। এখানে ছবিটি দেখানোর পর সেটি বাংলাদেশে মুক্তি পাবে। আমি কো-প্রডিউসার হিসেবে আরেকটি ছবি নির্মাণ করতে যাচ্ছি। ছবিটি নাম ‘গন্তব্য’। ভিন্ন ধারার এই ছবিতে অভিনয় করবেন ফেরদৌস, আইরিন, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, কাজী রাজু, এলিনা শাম্মী প্রমুখ। ছবিটি পরিচালনা করবেন অরণ্য পলাশ। এ ছাড়াও আরো কয়েকটি ছবি প্রযোজনার কথা হচ্ছে।
মনিস রফিক: আগামীতে ইফসা’র কার্যক্রম কেমন হবে?
আনোয়ার আজাদ: বর্তমানের এই কার্যক্রমকে আগামীতে আরো সুন্দর করা হবে, সেই সাথে চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতার বিষয়টার ওপর আমরা আরো বেশি জোর দিব। আগামীতে আমরা আরো বেশি ভাষার চলচ্চিত্র নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হবো, আর টরন্টোর আশে পাশের আরো বেশ কয়েকটি শহরে আমরা এই উৎসবের ব্যাপ্তি ঘটাবো।
মনিস রফিক: উৎসবের চলচ্চিত্র উপভোগ করার জন্য দর্শকরা কিভাবে টিকিট পেতে পারে।
আনোয়ার আজাদ: উৎসবের ওয়েব পেজwww.iffsatoronto.com ব্রাউজ করে যে কেউ চলচ্চিত্রের তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন এবং ই-টিকেট কেটে নিতে পারেন বা যোগাযোগ করুন:
আনোয়ার আজাদ  ৪১৬ ২১৯ ৬০৩৬
ফৌজিয়া শান্তা ৪১৬ ২৮৭ ৩১৪১,
মুস্তাফিজ রহমান  ৪১৬-৬১৮-০৪৫৫,
আজিজ হক  ৬৪৭ ৫৮৮ ৪২৯৪,
নাসির কাশেম ৬৪৭-৮৩৩-১৭০১,
তুষার আহমেদ ৬৪৭-৮৭৯-২২৪০
সুব্রত নন্দী  ৬৪৭ ৪৪৮ ৭১৩১
ওলায়ন সালাম  ৪১৬ ২৭৪ ২৪০।
আগামী ২১ মে রবিবার ও ২২ মে সোমবার ছবিগুলির স্ক্রিনিং হবে টরন্টোতে যেখানে ছবিগুলির উল্লেখযোগ্য অভিনেতা, অভিনেত্রী ও পরিচালক, প্রযোজকরা অংশগ্রহণ করবেন।
মনিস রফিক: ‘বাংলা কাগজ’-এর পক্ষ থেকে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
আনোয়ার আজাদ: আমার এই সাক্ষাৎকার নেবার জন্য ইফসা’র পক্ষ থেকে আমি আপনাকে ও ‘বাংলা কাগজ’-এর প্রতি  ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সেই সাথে চলচ্চিত্রপ্রেমী সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, এই উৎসবের চলচ্চিত্রগুলো দেখার জন্য।
সবাইকে বলতে চাই, মে মাসের ১১ থেকে ২২ পর্যন্ত এই  টরন্টো দক্ষিণ এশীয় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আপনি আমন্ত্রিত। আসুন বাংলা ছবি দেখুন এবং ছবি নিয়ে কথা বলুন বাংলাদেশ এবং কলকাতা থেকে উৎসবে উপস্থিত ছবির কলাকুশলীদের সাথে।

Original News Link

Leave your thought