Blog

স্বদেশের সংস্কৃতির স্বপ্নে | স্বপ্নের সন্দেশ Mamun Chowdhury – July 11, 2017

957 Views0 Comments

বাংলাদেশী বংশদ্ভুত আনোয়ার আজাদ। বাংলা চলচ্চিত্রকে-বাংলা সংস্কৃতিকে বিশ্বব্যাপি পরিচয় করানোর জন্য বেঙ্গলি চ্যাপ্টারের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। একজন বাংলাদেশী হিসেবে নিজস্ব সংস্কৃতি বিকাশে বিদেশের মাটিতে রাখছেন বিরাট ভুমিকা। স্বপ্নময় এই মানুষটির সাথে গল্প হয় ‘স্বপ্নের সন্দেশ’-এর।

স্বপ্নের সন্দেশ:   ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব সাউথ এশিয়া’ এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার গল্প নিয়ে যদি বলতেন-                                                                                   আনোয়ার আজাদ:  আমার দীর্ঘ দিনের বন্ধু সানি গিল আমাকে উৎসাহিত করে তাদের সাথে কাজ করার জন্য। তারপর আমি চিন্তা করি এর মাধ্যমেতো আমার দেশের চলচ্চিত্রকে আমি এখানে উপস্থাপন করতে পারি, আমার দেশের আমার অঞ্চলের কালচার তুলে ধরতে পারি। তখন বাংলা চলচ্চিত্র প্রসারের চিন্তায় তাদের সাথে আমি যোগ দেই। এখন প্রতি বছর এ উৎসবে বাংলাদেশ, কলকাতা, আসাম এসব অঞ্চল থেকে প্রচুর বাংলা চলচ্চিত্র আসছে। আর বেঙ্গলি চ্যাপ্টার টা আমি দেখি।

স্বপ্নের সন্দেশ:  চলচ্চিত্র বাছাই প্রক্রিয়ার গল্প সম্পের্কে একটু বলেন –                               আনোয়ার আজাদ: আমরা অনলাইনের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান করি। মার্চ এর ১৫ তারিখ পর্যন্ত এর সময় থাকে। তারপর সিলেকশন কমিটি প্রতিটি চলচ্চিত্র দেখে এরপর শর্ট লিষ্ট করে সেগুলো আবার দেখা হয়। এভাবে ধাপে ধাপে বাছাই পক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা সিনেমা নির্বাচন করে থাকি। চলচ্চিত্র বাছাই এর ক্ষেত্রে আমরা বেশি প্রাধান্য দেই সে ধরনের ছবি যেগুলোতে সমাজের প্রতি কোন মেসেজ থাকে বা বিশেষ ধরনের কোন গল্পের সিনেমা বা ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে চলচ্চিত্র। এ ধরনের সিনেমার দিকে আমাদের আগ্রহ থাকে বেশি।

স্বপ্নের সন্দেশ:  কেন এই ধরনের ফেস্টিভাল করছেন এর গল্প জানতে চাই-                       আনোয়ার আজাদ: মূলত সাউথ এশিয়ান অঞ্চল নিয়েই আমাদের এই ফেস্টিভাল। আমরা দক্ষিণ এশিয় অঞ্চলের কালচারটাকে তুলে ধরার জন্যই এর আয়োজন করছি। আর সেখানকার তরুণদের উৎসাহিত করা ও কানাডা বা এ অঞ্চলের সাথে তাদের পরিচিতি ঘটানোর জন্য কাজ করছি।

স্বপ্নের সন্দেশ:  বাংলা চলচ্চিত্র নিয়ে আপনার স্বপ্ন-                                                      আনোয়ার আজাদ: চলচ্চিত্র নির্মানের আগে ভাবা দরকার এর মাধ্যমে সমাজের জন্য কোন মেসেজ আছে কি-না। সমাজের কৃষ্টি-কালচার ইতিহাস এসব বিষয়ের দিকে নজর দেওয়া উচিৎ।

স্বপ্নের সন্দেশ:  চলচ্চিত্র নির্মাণে তুরুণদের জন্য আপনার পরামর্শ?                                   আনোয়ার আজাদ: আমি মনে করি তরুণ নির্মাতাদের কাজের প্রতি অনেক বেশি ডেডিকেটেড হওয়া উচিৎ। তাদেরকে কমিটেড হতে হবে। এবং তার কাজটি যেন সবচেয়ে সেরা কাজ হয় সে চিন্তাটি থাকা উচিৎ। তাহলে সাধারণ মানুষ তাদের ছবিগুলো দেখার জন্য হলে যাবে। এবং অনেকেই তখন তাদের কাজে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসবে। কাজের প্রতি একটা কমিটমেন্ট থাকা চাই। তাহলেই ভাল কিছু বেরিয়ে আসবে।

স্বপ্নের সন্দেশ:  নিজের ছবি প্রযোজনা’র গল্প সম্পর্কে যদি বলতেন-
আনোয়ার আজাদ: অলরেডি আমি ছবি প্রযোজনা করছি। প্রযোজনার ক্ষেত্রে আমি চাই ঐ রকম পরিচালক যে তার কাজের জন্য কষ্ট শিকার করবে এবং সব ধরনের পরিশ্রমের মানসিকতা তার থাকবে। আমি পুরাতন এবং নতুন দুই ধরনের ডিরেক্টর নিয়েই কাজ করতে চাই। আমি বিশ্বাস করি এর মাধ্যমে ভাল কিছু প্রোডাকশন বের হবে।

স্বপ্নের সন্দেশ:  তরুণ নির্মাতাদের ব্যাপারে যদি কিছু বলতেন-                                               আনোয়ার আজাদ: তরুণ নির্মাতাদের ব্যাপারে বলবো তারা কাজ নিয়ে যদি কমিটেড থাকে তাহলে তারা ভাল কাজ বের করতে পারবেই। পাশাপাশি তাদের অন্য ভাল ডিরেক্টরদের কাজও দেখা উচিৎ তাহলে সে তার কোথায় কোথায় ভুল আছে তা দেখে নিজেকে শুধরাতে পারবে। আমি মনে করি শিক্ষার কোন শেষ নেই। আমাদের এই উৎসবে প্রতি বছরই বাংলাদেশ কলকাতা থেকে অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী পরিচালক প্রযোজক অংশ গ্রহণ করে থাকেন।আমি মনে করি বাংলা সংস্কৃতি বিশ্বব্যাপি বা প্রাচ্য-পাশ্চাত্য পরিচিত লাভ করবে। আমাদের সংস্কৃতির বিকাশ ঘটবে।

স্বপ্নের সন্দেশ/ এম সি

OriginalNewsLink: http://dreamdeviser.net/2017/07/11/%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AA%E0%A7%8D/

 

Leave your thought