Blog

বাংলা সংস্কৃতিকে পাশ্চাত্যের সাথে পরিচয় ঘটাতে কাজ করছি : আনোয়ার আজাদ- আমাদের সময়.কম

821 Views0 Comments

আমাদের সময়.কম প্রকাশের  সময় : ১৩/০৫/২০১৭ -১৭:২৪ আপডটে সময় : আউয়াল চৌধুরী:

১১ মে থেকে কানাডার টরেন্টোতে শুরু হল ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব সাউথ এশিয়ার ৬ষ্ঠতম আসর। দক্ষিণ এশিয় অঞ্চল থেকে প্রতি বছর এই উৎসবে জমা পড়ে অসংখ্যা চলচ্চিত্র। জমকালো এই উৎসব চলবে ১১-২২ মে পর্যন্ত। পাশ্চাত্যর এমন একটি উৎসবের সঙ্গে দীর্ঘ দিন থেকে যুক্ত আছেন বাংলাদেশী বংশদ্ভুত আনোয়ার আজাদ। বাংলা চলচ্চিত্রকে-বাংলা সংস্কৃতিকে বিশ্বব্যাপি পরিচয় করানোর জন্য সেখানকার বেঙ্গলি চ্যাপ্টারের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। একজন বাংলাদেশী হিসেবে নিজস্ব সংস্কৃতি বিকাশে বিদেশের মাটিতে রাখছেন বিরাট ভুমিকা। কথা হয় তার সাথে- কিভাবে এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হলেন জানতে চাইলে আনোয়ার আজাদ বলেন, আমার দীর্ঘ দিনের বন্ধু সানি গিল আমাকে উৎসাহিত করে তাদের সাথে কাজ করার জন্য। তারপর আমি চিন্তা করি এর মাধ্যমেতো আমার দেশের চলচ্চিত্রকে আমি এখানে উপস্থাপন করতে পারি, আমার দেশের আমার অঞ্চলের কালচার তুলে ধরতে পারি। তখন বাংলা চলচ্চিত্র প্রসারের চিন্তায় তাদের সাথে আমি যোগ দেই। এখন প্রতি বছর এ উৎসবে বাংলাদেশ কলকাতা আসাম এসব অঞ্চল থেকে প্রচুর বাংলা চলচ্চিত্র আসছে। আর বেঙ্গলি চ্যাপ্টার টা আমি দেখি।

চলচ্চিত্র বাছাই পক্রিয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে আনোয়ার আজাদ বলেন, আমরা অনলাইনের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান করি। মার্চ এর ১৫ তারিখ পর্যন্ত এর সময় থাকে। তারপর সিলেকশন কমিটি প্রতিটি চলচ্চিত্র দেখে এরপর শর্ট লিষ্ট করে সেগুলো আবার দেখা হয়। এভাবে ধাপে ধাপে বাছাই পক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা সিনেমা নির্বাচন করে থাকি। চলচ্চিত্র বাছাই এর ক্ষেত্রে আমরা বেশি প্রাধান্য দেই সে ধরনের ছবি যেগুলোতে সমাজের প্রতি কোন মেসেজ থাকে বা বিশেষ ধরনের কোন গল্পের সিনেমা বা ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে চলচ্চিত্র। এ ধরনের সিনেমার দিকে আমাদের আগ্রহ থাকে বেশি।.

কেন এই ধরনের ফেস্টিভাল করছেন এর উত্তরে তিনি বলেন, মূলত সাউথ এশিয়ান অঞ্চল নিয়েই আমাদের এই ফেস্টিভাল। আমরা দক্ষিণ এশিয় অঞ্চলের কালচারটাকে তুলে ধরার জন্যই এর আয়োজন করছি। আর সেখানকার তরুণদের উৎসাহিত করা ও কানাডা বা এ অঞ্চলের সাথে তাদের পরিচিতি ঘটানোর জন্য কাজ করছি।

বাংলা চলচ্চিত্র নিয়ে আপনার ভাবনা কি জানতে চাইলে আনোয়ার আজাদ বলেন, চলচ্চিত্র নির্মানের আগে ভাবা দরকার এর মাধ্যমে সমাজের জন্য কোন মেসেজ আছে কি-না। সমাজের কৃষ্টি-কালচার ইতিহাস এসব বিষয়ের দিকে নজর দেওয়া উচিৎ।

চলচ্চিত্র নির্মাণে তুরুণদের কি করা উচিৎ বলে আপনি মনে করেন? এর উত্তরে তিনি বলেন, আমি মনে করি তরুণ নির্মাতাদের কাজের প্রতি অনেক বেশি ডেডিকেটেড হওয়া উচিৎ। তাদেরকে কমিটেড হতে হবে। এবং তার কাজটি যেন সবচেয়ে সেরা কাজ হয় সে চিন্তাটি থাকা উচিৎ। তাহলে সাধারণ মানুষ তাদের ছবিগুলো দেখার জন্য হলে যাবে। এবং অনেকেই তখন তাদের কাজে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসবে। কাজের প্রতি একটা কমিটমেন্ট থাকা চাই। তাহলেই ভাল কিছু বেরিয়ে আসবে। নিজের ছবি প্রযোজনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে আনোয়ার আজাদ বলেন, অলরেডি আমি ছবি প্রযোজনা করছি। প্রযোজনার ক্ষেত্রে আমি চাই ঐ রকম পরিচালক যে তার কাজের জন্য কষ্ট শিকার করবে এবং সব ধরনের পরিশ্রমের মানসিকতা তার থাকবে। আমি পুরাতন এবং নতুন দুই ধরনের ডিরেক্টর নিয়েই কাজ করতে চাই। আমি বিশ্বাস করি এর মাধ্যমে ভাল কিছু প্রোডাকশন বের হবে। আর তরুণ নির্মাতাদের ব্যাপারে বলবো তারা কাজ নিয়ে যদি কমিটেড থাকে তাহলে তারা ভাল কাজ বের করতে পারবেই। পাশাপাশি তাদের অন্য ভাল ডিরেক্টরদের কাজও দেখা উচিৎ তাহলে সে তার কোথায় কোথায় ভুল আছে তা দেখে নিজেকে শুধরাতে পারবে। আমি মনে করি শিক্ষার কোন শেষ নেই। তিনি বলেন, আমাদের এই উৎসবে প্রতি বছরই বাংলাদেশ কলকাতা থেকে অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রী পরিচালক প্রযোজক অংশ গ্রহণ করে থাকেন। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ থেকে এসেছেন অভিনেত্রী অপর্ণা ঘোষ, কলকাতা থেকে এসেছেন অনেকে। আরো আসছেন মোস্তফা সারওয়ার ফারুকী, পরিচালক বিজন ইমতিয়াজ, আসামের পরিচালক বেবি শর্মা বড়–য়া, কলকাতার পরিচালক শৈবাল মিত্রসহ উল্লেখযোগ্য অভিনেতা অভিনেত্রী পরিচালক ও প্রযোজকরা অংশ গ্রহণ করবেন। এবার প্রায় শতাধিক চলচ্চিত্র এখানে প্রদর্শিত হবে। এভাবেই আমি মনে করি বাংলা সংস্কৃতি বিশ্বব্যাপি বা প্রাচ্য-পাশ্চাত্য পরিচিত লাভ করবে। আমাদের সংস্কৃতির বিকাশ ঘটবে।

Leave your thought