Blog

‘বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের ভালো কাজগুলোকে প্রমোট করতে চাই’ –১০ মে থেকে শুরু হচ্ছে ‘ইন্টারনেশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল অব সাউথ এশিয়া’

1020 Views0 Comments

‘বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের ভালো কাজগুলোকে প্রমোট করতে চাই’

১০ মে থেকে শুরু হচ্ছে ‘ইন্টারনেশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল অব সাউথ এশিয়া’

আনোয়ার আজাদ। বাস করেন সুদূর কানাডায়। তবে দূর দেশেও থাকলেও দেশি সিনেমা নিয়ে কাজ করছেন তিনি। প্রযোজনাও করছেন বেছে বেছে। এরইমধ্যে আশরাফ শিশিরের ‘গোপন দ্য ইনার সাউন্ড’, অরণ্য পলাশের ‘গন্তব্য’ এবং গোলাম মোস্তফা শিমুলের পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর এক্সকিকউটিভ প্রডিউসার হিসেবে ছিলেন তিনি। তিনটি ছবিই আছে মুক্তির তালিকায়। তবে সবকিছু ছাপিয়ে তিনি মূল কাজটি করছেন ‘ইন্টারনেশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল অব সাউথ এশিয়া, টরেন্টো’ নিয়ে। কেনোনা এই উৎসবের প্রধান কার্যনির্বাহী টিমে ডিরেক্টর অফ বেঙ্গলি অ্যাফেয়ার্স পদে আছেন তিনি। আগামি ১০ থেকে ১২ দিনের বেশি সময় ধরে কানাডার টরেন্টো শহরে বসছে এই প্রেস্টিজিয়াস উৎসব। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় এই চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলা চলচ্চিত্র বিভাগের দায়িত্ব পালন করা এই মানুষটি মুখোমুখি চ্যানেল আই অনলাইনের। কথা বলেছেন চলতি বছরের উৎসবটি নিয়ে। বলেছেন নিজের ভিশন নিয়েও:

ইন্টারনেশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল অব সাউথ এশিয়ার সাথে কীভাবে যুক্ত হলেন। আপনার যাত্রাটা কী করে শুরু?
প্রথমত ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল অফ সাউথ এশিয়ার সঙ্গে জড়িত হওয়ার মাধ্যমেই। আমি মনে করি নিজের শৈল্পিক অভিব্যক্তিগুলো প্রকাশের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হল চলচ্চিত্র। আর যারা শিল্পসম্মত চলচ্চিত্রের ব্যাপারে আগ্রহী বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের চলচ্চিত্রর দর্শকের সংখ্যাও কিন্তু কম নয়। যেহেতু আমি দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ীভাবে বিদেশে বসবাস করি তাই চিন্তা ছিল কীভাবে দেশের বাইরে থেকে ফিল্ম সম্পর্কিত মূলধারার প্ল্যাটফর্ম এর সাথে নিজে যুক্ত হয়ে কাজ করা যায় আর কিছুটা অবদান রাখা যায়। এখন থেকে সাত বছর আগে ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো এই উৎসব শুরু হলে আমার দীর্ঘ সময়ের বন্ধু যিনি ইফফসা টরন্টোর প্রতিষ্ঠাতা/বর্তমান সভাপতি জনাব সানি গিল আমাকে তার দলের সাথে যোগ দিতে উৎসাহিত করেন বাংলা চলচ্চিত্র অন্তর্ভুক্ত করতে ফিল্ম ফেস্টিভালে। আর একসঙ্গে কাজ করে সমস্ত দক্ষিণ এশীয় দেশ জুড়ে বিভিন্ন ভাষাভাষীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে। আমি দ্বিতীয় বছর থেকে মানে ২০১২তে তাদের সাথে যোগদান করি । চলতি বছর এই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সপ্তম বছর। যেহেতু আমি বাংলাদেশ থেকে স্বাভাবিকভাবে বাংলা ভাষায় কথা বলি এবং বাংলাদেশ ও কলকাতার চলচ্চিত্র স্ক্রিণিং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো দেখি এবং পাশাপাশি একইসঙ্গে অন্যান্য কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে ফিল্ম ফেস্টিভালের জন্য আমাদের অন্যান্য দায়িত্ব পালন করি।

International Film Festival of South Asia, Toronto – এ উৎসবের শুরু কবে থেকে কী করে?
চলচ্চিত্র উৎসবটা এই গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমান সভাপতি মি. সানি গিলের প্রাথমিক ভাবনার ফল (Brain Child)। ২০১১ সালে ‘ORIGIN’নাম দিয়ে এই উৎসবের শুরু হয়। ২০১২ সালে এসে এর নাম পরিবর্তন হয়ে হয় পিআইএফএফ (পাঞ্জাবিইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল)। এরপর ২০১৪ সালে এর নাম আবার আইএফএফএস এ পরিবর্তন করা হয়েছে। অন্যান্য দক্ষিণ এশিয়ান দেশের ভাষা এবং ফিল্মগুলির যোগ হওয়ার সাথে সাথে এটির পরিধিও বৃদ্ধি পাচ্ছে । বর্তমানে দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতি ও পরিচয়ের থিমের উপর ৫০টির বেশি আয়োজন রয়েছে। বিভিন্ন বৈচিত্র্য, স্বাধীন ভাষা, সারা বিশ্বের নির্বাচিত সেরা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পূর্ণদৈর্ঘ্যচলচ্চিত্র, ডকুমেন্টারি এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে। উপরন্তু, এই উৎসবটি কনসার্ট, গালা ইভেন্ট, লাউঞ্জ পার্টি, সেমিনার, ওয়ার্কশপ সরকারি প্রতিনিধিদের সাথে নেটওয়ার্কিং সুযোগ, ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সংস্থাগুলি যারা ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট সমর্থন করে, ফিল্মস্টার, প্রযোজক, পরিচালক, মিডিয়া সদস্য এবং আরও অনেক কিছুকে সমর্থন করে । সংক্ষেপে ২০১১ সালে নির্দিষ্ট ভাষাসহ সিমিত সংখ্যক চলচ্চিত্র নিয়ে ব্রাম্পটনে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। এখন ২০১৮ সালে এসে এটি বেড়ে এসে দাঁড়িয়েছে ১২+ দিন, ১৭+ ভাষা,১৫০+ চলচ্চিত্র এবং ৫০+ ইভেন্টএবং + ৭ টি ভিন্ন ভিন্ন শহরে প্রদর্শিত হয়ে থাকে। যা শুরু হচ্ছে আগামি ১০ মে থেকে।

উৎসবে কোন কোন দেশ অংশ নিচ্ছে এবার? কয়টি চলচ্চিত্র থাকছে?
এই উৎসবে সাউথ এশিয়ার প্রায় সব কয়টি দেশই অংশ নিচ্ছে । যেহেতু সাউথ এশিয়ান দেশগুলোতে দেখা যায় একই দেশের একেক অঞ্চলে একেক ভাষা ভিত্তিক চলচ্চিত্র বানাচ্ছে। আর সব ভাষার লোকই বিদেশের সব জয়গাতেই কম বেশি থাকে। আমরা চাই সব ভাষার চলচ্চিত্রই এই উৎসবে অংশগ্রহণ করুক এবং সবাই তাদের নিজস্ব ভাষার ছবি উপভোগ করুক। দেখা যাচ্ছে তাই হচ্ছে। আমরা এই বছর ১৭ এর উপরে বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্র দেখাবো। ভাষাগুলি হল অসমিয়া, বাংলা,দারি,হিন্দি,উর্দু,কান্নাডা,কুরামালি,মালায়েলাম,পাঞ্জাবি, ইংলিশ, ফ্রেঞ্চ,সিনহলিজ, স্প্যানিশ, সংস্কৃতি,হরিয়ানভি , ওড়িয়া, মারাঠি। ১৫০ টির উপরে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, ডকুমেন্টারি এবং ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দেখানো হবে ১২ দিনের এই উৎসবে। সংক্ষেপে বলা যায় এই চলচ্চিত্র উৎসবটা ১২ দিনের উপরে, ৫০ টার উপরে ইভেন্টর মাধ্যমে এবং ১৫০ + দেখান হএ ১৭ + ভাষায় এবং ৭ টি ভিন্ন ভিন্ন শহরে।

কর্মশালার আয়োজন আছে জানলাম– এ সম্পর্কে বিস্তারিত বলবেন কী?
হ্যাঁ চলচ্চিত্র উৎসবের সময় কর্মশালার আয়োজন থাকবে। এই উৎসবে সাউথ এশিয়ান বিভিন্ন দেশসহ আমেরিকা, ইংল্যান্ড থেকে যোগ দিবেন চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক, শিল্পী, কলাকুশলী, দর্শক ও ছবি কেনা বেচার সঙ্গে সম্পৃক্তরা। তারা এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে নিজের চলচ্চিত্র যাত্রা ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা ভাগাভাগি করবেন । আরও ভাগাভাগি করবেন কীভাবে তরুণরা চলচ্চিত্রের জন্য পেতে পারেন আন্তর্জাতিক অনুদান, আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সঙ্গে ছবি করা ইত্যাদি বিষয়। আজকাল আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও সহপ্রযোজনা ছাড়া সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ছবি বানানোটা খুব সহজ কথা নয়। এই ধরনের ফোরামে অংশ নিয়ে অনেকেই উপকৃত হয়ে থাকে।

সাউথ এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভালের গ্রহণ যোগ্যতা ও ব্যাপ্তি নিয়ে বলুন। এই ফেস্টিভালে আপনার ইনভলমেন্ট কীভাবে?
দেখুন এখন আমরা এই নর্থ আমেরিকাতে সর্ববৃহৎ সাউথ এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভাল গ্রুপ। তাহলে এটাতেই বোঝা যায় আমাদের এই সাউথ এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভালের গ্রহণযোগ্যতাও ব্যাপ্তী কীভাবে বাড়ছে দিন দিন। একটি কথা আমাদের এই ফিল্ম ফেস্টিভালের কার্যনির্বাহী টিমের সদস্যরা আমরা যেভাবে সারা বছর ধরে আমাদের মিশন এবং ভিশন নিয়ে কাজ করি মানে আমরা প্রতি বছরই নতুন নতুন ইভেন্ট যোগ করছি তাতে করে আমাদের এই ফিল্ম ফেস্টিভাল সব দিক থেকেই বাড়ছে। আমি এখন প্রধান কার্যনির্বাহী টিমে ডিরেক্টর অফ বেঙ্গলি অ্যাফেয়ার্স হিসাবে আছি। আমি মূলত বাংলা ভাষার ছবি গুলি নিয়ে উৎসবে কাজ করি অন্যান্য দায়িত্বের পাশাপাশি ।

দেশের দুই নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম ও অরুণ চৌধুরীর সাথে আনোয়ার আজাদ

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর ছবি এই ফেস্টিভালে যাচ্ছে। কিছু বাংলাদেশ থেকেও যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার আর আর সিনেমার সাথে তুলনামূলক আমাদের ছবিগুলো নিয়ে আপনার অভিমত কী– যদি বলেন?
প্রথমেই বলে নেই এই ফিল্ম ফেস্টিভালে বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র এখন আর কম গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নেই। গত সাত বছরে বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র টরেন্টোর এই ফেস্টিভালে অন্যতম প্রধান অংশগ্রহণকারী। আর দর্শকের কথা যদি বলেন আমি এক কথায় বলবো বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র গুলি দর্শকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। ভাল চলচ্চিত্র বলেইতো বাংলা ভাষার চলচ্চিত্রের প্রতি সবার আকর্ষণ বাড়ছে ।

আপনিতো এসবের পাশাপাশি বাংলাদেশেও ফিল্ম প্রডিউস করছেন। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাই…
চলচ্চিত্র নিয়ে একটা প্যাশন আমার মধ্যে সবসময়ই ছিলো। আপনি বলতে পারেন এই ফিল্ম ফেস্টিভালের সাথে আমার সংশ্লিষ্টতা আমাকে চলচ্চিত্র প্রযোজক হতে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি একই সাথে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক–পরিবেশক সমিতিরও সদস্য হয়েছি। আমার প্রোডাকশন হাউজ কানাডিয়ান মিডিয়া এন্টারটেনমেন্ট ইনকের নামে আমার প্রথম সহ-প্রযোজনার চলচ্চিত্র গোপন (দ্য ইনার সাউন্ড) যা আগস্ট ২০১৬ এ শেষে হয়েছে। ছবিটির পরিচালক আশরাফ শিশির। গোপন ছবিটি এখন পর্যন্ত দিল্লি, নেপাল, কানাডা, স্পেন, রাশিয়া সহ বিভিন্ন দেশের ফিল্ম ফেস্টিভালে অংশগ্রহন করার সুযোগ পেয়েছে। আশা করছি গোপন ২০১৮ তে বাংলাদেশে মুক্তি পাবে। আমি গোলাম মোস্তফা শিমুলের পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর এক্সিকিউটিভ প্রযোজক হিসাবে ২০১৭ সালের ২৭ শে অগাস্ট কানাডার টরন্টোতে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার করেছিলাম প্রচুর দর্শকের উপস্থিতিতে। এই ছবিটি ১৩ই জুলাই বাংলাদেশে সিনেমা হলে মুক্তি পাবে। আমার ৩য় সহ-প্রযোজনার চলচ্চিত্র গন্তব্য-The Destination যার পরিচালক অরণ্য পলাশ। এ চলচ্চিত্র এখন পোস্ট প্রোডাকশন পর্যায়ে আছে এবং এই বছরেই হলে মুক্তি পাবে। গন্তব্যতে ফেরদৌস,আইরিন, জয়ন্ত সহ অনেকেই আভিনয় করেছেন। একই সাথে বাংলাদেশে আমার প্রোডাকশন কোম্পানি আনোয়ার আজাদ ফিল্মস নামে টিভি ফিকশন করছি। এই কাজগুলো আগামি ৩/৪ মাসের মধ্যেই বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে দেখানো হবে। কলকাতার সাথেও আরেকটা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের কাজের চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। আর সব শেষে বলবো এখানে মানে কানাডাতে একটা নতুন চলচ্চিত্র করার কাজও একই সাথে এগুচ্ছে।

‘ফিল্মের পৃথক একটি ভাষা আছে।’- কথাটাকে কী ভাবে দেখেন?
চলচ্চিত্র সমাজের একটি প্রতিচ্ছবি, বর্তমান এবং অতীত উভয় সময়ের। প্রাথমিক ভাবে চলচ্চিত্র শুধুমাত্র জনসাধারনের বিনোদনের জন্য তৈরি করা হয়। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ফিল্মগুলি বিভিন্ন জাতির সংস্কৃতির ধারণা প্রকাশ করে এবং এইভাবে এটা আমাদের বিশ্বাস এবং জীবনযাত্রার পথকেও প্রভাবিত করে। চলচ্চিত্র বর্তমান সময়ের ঘটনা প্রতিফলিত করে। চলচ্চিত্র ২০ শতকের জন্য একটি শক্তিশালী যোগাযোগ মাধ্যম হিসাবেও কাজ করে, কারণ এটি সর্বজনীন এবং সর্বোপরি সারা বিশ্বে তথ্যপ্রবাহ বা সংবাদ প্রদান করার সবচেয়ে সাধারণ উপায়।

ফিল্মের কনটেন্ট নির্বাচনকে কি আজকাল আন্তর্জাতিক উৎসব কতটা নিয়ন্ত্রণ করছে বলে মনে করেন?
আমি ঠিক এভাবে মনে করিনা যে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলি ফিল্মের কনটেন্ট নির্বাচনকে নিয়ন্ত্রণ করছে। চলচ্চিত্র মেকিংয়ের একটা ফিলোসফিক্যাল আসপেক্ট আছে, আর্টিস্টিক আসপেক্ট আছে। যখন চলচ্চিত্র উৎসবে কোনো ছবি বাছাই করা হয় তখন প্রধানত বিবেচনা করা হয় এমন একটি চলচ্চিত্র যাতে কোন বিশেষ বার্তা, বিশেষ কাহিনি, ঐতিহ্য ইত্যাদি রয়েছে। সুতরাং এটা ঠিক এক ধরণের কনটেন্টকেই নির্বাচন করে না।

আপনি প্রোডিউসও করছেন। সেক্ষেত্রে নির্মাতা এবং প্রযোজকের যে দ্বন্দ্ব প্রায়ই দেখা যায় এ বিষয়গুলো নিয়ে কী ভাবেন?
অবশ্যই দেখতে পাই এ ধরনের ঘটনা। অনেক ক্ষেত্রে দেখি কাজটা আর শেষ হয় না। আসলে নির্মাতা এবং প্রযোজকের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। কাজ শুরর আগেই পুরো প্রোজেক্টটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে নিতে হবে। আর যখন এই কাজটা শুরু হবে সেক্ষেত্রে সম্ভাব্য বাধাগুলি কী কী হতে পারে এবং কে কোন রোল প্লে করবে তা পরিস্কার করে নিতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি সিনেমা বানানোর সময় যদি পরিচালককে তার ভালো কাজ করার জন্য মানে তার মেধাকে কাজে লাগানোর জন্য স্পেস না দেওয়া হয় তাহলে সে কীভাবে তার মেধা কাজে লাগিয়ে একটা ভাল কাজ বের করে আনতে পারবে! সেক্ষেত্রে চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় কোনোভাবেই দন্দ্বে যাওয়া যাবে না। নির্মাতা এবং প্রযোজকের দ্বন্দ্ব হলে খুব দ্রুত মিটিয়ে ফেলতে হবে।

‘মাটির প্রজার দেশে’ নির্মাতা বিজন ইমতিয়াজের সঙ্গে আনোয়ার আজাদ

বাংলাদেশ থেকে এখন বাইরে নির্মাতা-প্রডিউসাররা যাচ্ছেন। একটা যোগাযোগ হুট করেই অনেকাংশে বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে। এ ব্যাপারটিকে কী ভাবে দেখছেন?
অবশ্যই পজিটিভ দিক এটা আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য। কারণ এই গ্লোবালাইজেশনের যুগে আমরা যদি আমাদের চলচ্চিত্রের মান ঠিক রেখে এগুতে না পারি তাহলে আমরা আরও পিছিয়ে যাবো। আর এটাও সত্যি সুযোগ এখন আগের চেয়ে বেড়েছে। আমি অবশ্যই গর্ব বোধ করি যখন দেখি আমরা মানে আমাদের মতো বাংলাদেশি ব্যাকগ্রাউন্ড যারা এখানে মূলধারার সাথে মিলে একসাথে কাজ করছি এবং আমি বলব ব্যাপকভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের চলচ্চিত্র অন্যান্য দেশের পাশাপাশি প্রদর্শনের সুযোগ করে নিচ্ছি। এটাওতো অবশ্যই বড় পাওয়া আমাদের সবার জন্য, যেটা আমরা কিছুদিন আগেও ভাবতে পারতাম না।

 সিনেমা নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?
আমার পরিকল্পনা দুই ধরনের। যেহেতু আমি কানাডাতে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ীভাবে বসবাস করি এবং এখানে একটা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সাথেও জড়িত এবং একই সাথে বাংলাদেশে আমার প্রোডাকশন কোম্পানি আনোয়ার আজাদ ফিল্মস ও চলচ্চিত্র ও টিভি ফিকশন প্রযোজনার সাথে জড়িত, তাই আমাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা আমরা এর পরে যৌথ প্রযোজনার সাথে জড়িত হবো। আর সেটা অবশ্যই বাংলাদেশের সাথে। আর বর্তমানে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম যে ধরনের চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন তাদের ভালো কাজগুলোকে প্রমোট করবো সুযোগ মত আন্তর্জাতিক ভাবে। এক কথায় বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের ভালো কাজগুলোকে প্রমোট করতে চাই।

Original News

‘বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের ভালো কাজগুলোকে প্রমোট করতে চাই’

Leave your thought